আমাদের দেশে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী উইন্ডোজ ওপারেটিং সিস্টেমের কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকেন। উইন্ডোজ ব্যবহারের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় ওপেন সোর্স সফটওয়্যার রয়েছে যা আপনার নিত্য পিসি এবং ল্যাপটপ ব্যবহারে কাজে লাগবে। আজ আমরা পাঠকদের জন্য গতানুগতিক ধারার বাইরে এমন ১০টি অত্যাবশ্যকীয় সফটওয়্যারের কথা তুলে ধরবো যা আপনার উইন্ডোজের ব্যবহারকে একটি অন্য মাত্রা প্রদান করবে।

১। Microsoft Security Essentials :
মাইক্রোসফটের নিজস্ব অ্যান্টিভাইরাস যা উইন্ডোজ ৭ এবং উইন্ডোজ ভিসতার জন্য বেশ প্রচলিত। আমাদের দেশের বেশিরভাগ ব্যবহারকারী এই অ্যান্টিভাইরাস সম্পর্কে অবগত নন। এইক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা অ্যাভাস্ট, এভিজি, আভিরা ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এই ফ্রি অ্যান্টিভাইরাসগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ভালো নিরাপত্তা দিতে পারেন না। সেদিক থেকে সিকিউরিটি অ্যাসেনসিয়াল অনেক কার্যকর। যা অনেক ক্ষেত্রে পেইড অ্যান্টিভাইরাসগুলোর সমতুল্য।

২। Glary Utilities :
উইন্ডোজ পিসি কিংবা ল্যাপটপের জন্য এর চেয়ে ভালো কোন ইউটিলিটি আর হয় না। অনেকেই এই ক্ষেত্রে সিসি ক্লিনার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু গ্ল্যারি ইউটিলিটি একটি র‍্যাম ক্লিনারের চেয়েও বেশি কিছু। এতে একই সাথে রয়েছে আনইন্সটলার, সিস্টেম রিপেয়ার, ডিস্ক ক্লিন আপ, অ্যান্টি ম্যালওয়ারসহ আরো অনেক কিছু। যা আপনার কম্পিউটারের ব্যবহারকে নানামুখী দিক থেকে সাহায্য করবে।

৩।Lightshot :
লাইটশট একটি ছোট সফটওয়্যার। কিন্তু বেশ কার্যকর একটি সফটওয়্যার। এটি দিয়ে আপনি কম্পিউটারের স্ক্রীন শট নিতে পারবেন বেশ সহজেই। তাছাড়া স্ক্রীনশটে টেক্সটও লিখতে পারবেন। স্ক্রীনশটগুলো জেপিজি কিংবা পিএনজি দুই ফরমেটেই সেভ করা যায়।

৪। Paint Dot Net :
প্রযুক্তি ব্লগারদের ভাষায় এটি হলো ফটোশপের বিকল্প বা হালকা সংস্করণ। আমাদের দেশে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী এই ক্ষেত্রে পিকাসা ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু পেইন্ট ডট নেটে পিকাসার চেয়েও বেশি ফটোএফেক্ট দেওয়া যায়। ফটো এডিট করা যায়। ছবি আঁকা থেকে শুরু করে ছবির আরো অনেক ফিচার আপনি এখানে পাবেন।

৫। Eagleget :
ডাউনলোডের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বেশিরভাগ ব্যবহারকারী বেঁছে নেন আইডিএম। কিন্তু আইডিএম ইন্টিগ্রেশন এর ক্ষেত্রে যেমন ঝামেলা পোহাতে হয় তেমনি এটি একটি পেইড সফটওয়্যার যার জন্য প্রায় সময় ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই জানেন না আইডিএম এর মতো ডাউনলোড স্পিডের ফ্রি সফটওয়্যার রয়েছে যার নাম ঈগলগেট। এটি দিয়ে আপনি যেকোনো ভিডিও মাধ্যম থেকে ভিডিও ডাউনলোড করতে পারবেন।

৬। Everything Software :
আরেকটি বেশ কার্যকর কিন্তু ছোট সফটওয়্যার। এর আকার মাত্র কয়েকশ কিলোবাইট। এটি দিয়ে আপনি আপনার পিসিতে আপনার কাঙ্ক্ষিত ফাইল সার্চ করতে পারবেন। আর খুব দ্রুতই আপনার সার্চের ফলাফল দেখতে পাবেন। এটি উইন্ডোজের ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন থেকেও অনেক বেশি দ্রুতগতির।

৭। Media Player Classic :
মিডিয়া প্লেয়ারের ক্ষেত্রে এটি একটি ক্লাসিক মর্যাদা পাওয়া এই সফটওয়্যারটি দিয়ে আপনি যেকোনো ধরনের ভিডিও প্লে করতে পারবেন। অনেকেই অভিযোগ করেন এর সাউন্ড কম শোনা যায়। বিষয়টি তা নয় আপনি এর অপশন থেকে সাউন্ড বুস্ট বাড়িয়ে দিলে উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার, ভিএলসি প্লেয়ার কিংবা কেএমপি থেকে বেশি সাউন্ড পাবেন। এতে রয়েছে ভিডিও ডিকোডার।

৮। Easy Us Recovery :
রিকুভা আমাদের দেশে ব্যবহারকারীদের নিকট বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু রিকুভার চেয়েও বেশি কার্যকর একটি রিকভারি সফটওয়্যার হলো ইজি আস রিকভারি। এতে আপনি ডিপ স্ক্যান দিতে পারবেন। আর এই ডিপ স্ক্যানের মূল সুবিধা হলো ডিলিট কিংবা হারিয়ে যাওয়া সব ধরনের ফাইলকেই সে সহজে খুজে বের করতে পারে।

৯। Trillion :
সোশ্যাল নেটওয়ার্কের চমৎকার এই সফটওয়্যারটি দিয়ে আপনি ফেসবুক চ্যাট, নিউজফিড আপডেট জানতে পারবেন। এছাড়া এটি আপনার ইমেইল ক্লায়েন্ট হিসেবেও বেশ ভালো কাজ করবে। আপনি মুভি কিংবা পিসিতে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকলে এটি নোটিফিকেশন আকারে আপনাকে চ্যাট কিংবা ইমেইল সম্পর্কে জানাবে।

১০। Winrar :
উইন্ডোজ কম্পিউটারের একটি চমৎকার কম্প্রেসন সফটওয়্যার। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী ক্র্যাক করা উইনজিপ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এই পেইড সফটওয়্যারটি ক্র্যাক অবস্থায় ভালো কাজ দেয় না যতটা না এই ফ্রি সফটওয়্যারটি দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে আপনি যেকোনো ধরনের কম্প্রেশন ফাইলকে এক্সট্র্যাক্ট করতে পারবেন।